মিস্টার বিস্ট: সাধারণ জিমি থেকে ইউটিউবের রাজা হওয়ার গল্প | MrBeast Biography in Bengali

মিস্টার বিস্ট (MrBeast) Biography, Wiki, Age, Family, Wife & Net Worth 2026

মিস্টার বিস্ট (MrBeast)

Youtuber
0

আপনারা কি জানেন জিমি ডোনাল্ডসন, তিনি হলেন বিশ্বজুড়ে 'মিস্টার বিস্ট' (MrBeast) নামেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত। জিমি ডোনাল্ডসন শুধুমাত্র একজন ইউটিউবার নন, বরং তিনি বর্তমান সময়ের পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রভাবশালী ফিলানথ্রপিস্ট এবং সফল উদ্যোক্তার মধ্যে একজন। আজকে আমরা তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও তার সকল পরিসংখ্যান তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

আপনারা আজকে দেখবেন মিস্টার বিস্টের ইউটিউব সাম্রাজ্য কতটা বিশাল, আপনারা এই পরিসংখ্যানগুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন :

📏 Stats

MrBeastমূল চ্যানেল
৩০০ মিলিয়নের বেশি (ক্রমবর্ধমান)মোট সাবস্ক্রাইবার
৫০ বিলিয়নেরও বেশিমোট ভিডিও ভিউ
৮০০+ (সব চ্যানেল মিলিয়ে)ভিডিও আপলোড সংখ্যা
$৫০০ মিলিয়ন - $১ বিলিয়ন (ধারণা করা হয়)আনুমানিক নেট ভ্যালু
Counting to 100,000প্রথম ভাইরাল ভিডিও

আপনারা অনেকেই জানেন না জিমির ব্যক্তিগত জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যা আজও অনেক মানুষের কাছে অজানা। দেখুন মিস্টার (MrBeast) ব্যক্তিগত তথ্য :

📂 Personal Info

আসল নামজেমস স্টিফেন "জিমি" ডোনাল্ডসন (James Stephen "Jimmy" Donaldson)
ডাকনামমিস্টার বিস্ট (MrBeast)
জন্ম তারিখ৭ মে, ১৯৯৮
বর্তমান বয়স২৬ বছর (২০২৪ অনুযায়ী)
জন্মস্থানউইচিটা, কানসাস, যুক্তরাষ্ট্র
বর্তমান বাসভবনগ্রিনভিল, নর্থ ক্যারোলিনা, যুক্তরাষ্ট্র
উচ্চতা৬ ফুট ৩ ইঞ্চি (১.৯১ মিটার)
শিক্ষাগত যোগ্যতাগ্রিনভিল ক্রিশ্চিয়ান একাডেমি (গ্রাজুয়েশন), কলেজ ড্রপআউট
পেশাইউটিউবার, উদ্যোক্তা, ফিলানথ্রপিস্ট
Net Worth & Earningsআনুমানিক নেট ওয়ার্থ $৭০০ মিলিয়ন থেকে $১ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮,০০০ - ১১,০০০ কোটি টাকারও বেশি)।ট

আপনারা জানেন এই মিস্টার বিস্টের ব্যক্তিগত পছন্দগুলো বেশ সাধারণ। তার পছন্দগুলো নিয়ে আজ আমরা কিছু তথ্য আপনাদের কাছে উপস্থাপন করবো কেন তার এই সাধারণ পছন্দগুলো তার ভক্তদের আরো কাছে নিয়ে যাই :

❤️ Favorites

প্রিয় গেমমাইনক্রাফট (Minecraft), জিটিএ ৫ (GTA V)
প্রিয় রংলাল (তার লোগো এবং ব্র্যান্ডিংয়ে বেশি দেখা যায়)
প্রিয় খাবারবিস্ট বার্গার (তার নিজের ব্র্যান্ড) এবং চকলেট
শখইউটিউব অ্যালগরিদম নিয়ে গবেষণা করা, ভিডিও গেম খেলা
অনুপ্রেরণাপিউডিপাই (PewDiePie) – যাকে তিনি ক্যারিয়ারের শুরুতে আইডল মানতেন।

আজকে আমরা জানাবো জিমির (মিস্টার বিস্ট) সাফল্যের পেছনে তার পরিবার এবং তার খুব কাছের মানুষদের কতটা অবদান রয়েছে :

👨‍👩‍👦 Family

মা (Mother)মিসেস সু (Mrs. Sue)। তিনি জিমির অনেক ভিডিওতে এসেছেন এবং একবার জিমির কাছ থেকে $১০০,০০০ উপহার পেয়েছিলেন।
বাবা (Father)তার বাবার নাম প্রকাশ্যে খুব একটা জানা যায় না, তবে তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।
ভাই (Brother)সিজে ডোনাল্ডসন (CJ Donaldson)। তিনিও একজন জনপ্রিয় ইউটিউবার (চ্যানেল নাম: MrBro)।
গার্লফ্রেন্ড (Relationship)থিয়া বয়সেন (Thea Booysen)। তিনি একজন দক্ষিণ আফ্রিকান ইউটিউবার এবং লেখক। (এর আগে তিনি ম্যাডি স্পিডেল-এর সাথে সম্পর্কে ছিলেন)।

আজকের বিশ্বে মিস্টার বিস্টকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নগুলো তার ভক্তদের মনে সারা দেয় তা নিয়ে কথা বলবো। তাছাড়া তার ভক্তরা তাকে কত ভালোবাসে তা এই প্রশ্ন গুলো দেখলেই বুজা যাই।

❓ FAQ

মিস্টার বিস্টের কি কোনো অসুখ আছে?
হ্যাঁ, জিমির 'ক্রোনস ডিজিজ' (Crohn's disease) নামে পেটের একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ আছে। এটি একটি প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগ, যা তাকে মাঝেমধ্যেই খুব ভোগায়।
তিনি এত টাকা কোথায় পান?
তার আয়ের প্রধান উৎস হলো ইউটিউব অ্যাডসেন্স, ব্র্যান্ড স্পন্সরশিপ (যেমন: Honey, Shopify), এবং নিজের ব্যবসা (Feastables চকলেট, MrBeast Burger)। তিনি তার আয়ের প্রায় পুরোটা পরবর্তী ভিডিও তৈরিতে খরচ করেন।
মিস্টার বিস্ট কেন মানুষকে টাকা বিলিয়ে দেন?
জিমি বিশ্বাস করেন, ভিডিও থেকে যা আয় হবে তা মানুষের উপকারে এবং কন্টেন্টের মান উন্নয়নে খরচ করা উচিত। তিনি বলেন, "আমি মারা যাওয়ার আগে আমার ব্যাংকের শেষ ডলারটিও দান করে যেতে চাই।"
তার দলের প্রধান সদস্য কারা?
শুরুর দিকে তার সাথে ছিলেন ক্রিস টাইসন, চ্যান্ডলার, কার্ল জ্যাকবস এবং নোলান। এরা সবাই তার ছোটবেলার বন্ধু বা বিশ্বস্ত সহকর্মী।

💡 একটু ভাবুনতো মিস্টার বিস্টের জীবন থেকে আমরা কি কি শিক্ষণীয় বিষয় জানলাম :

১. ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা: সাফল্য কোনো জাদু নয়। জিমি বছরের পর বছর কোনো ভিউ ছাড়াই ভিডিও বানিয়ে গেছেন, কিন্তু হাল ছাড়েননি। লেগে থাকাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

২. দর্শকের গুরুত্ব: তিনি প্রমাণ করেছেন, দর্শকরাই সব। ভিডিওর কোয়ালিটি এবং তাদের সময়ের মূল্য দিলে, তারাও আপনাকে ভালোবাসা ফিরিয়ে দেবে।

৩. বিনিয়োগ মানসিকতা: টাকা জমিয়ে না রেখে তিনি নিজের কন্টেন্ট এবং ব্যবসায় পুনরায় বিনিয়োগ (Re-invest) করেছেন। বড় হতে হলে এই ঝুঁকি নেওয়ার সাহস থাকতে হবে।

৪. টিমওয়ার্কের শক্তি: একা হয়তো দ্রুত হাঁটা যায়, কিন্তু বহুদূর যেতে হলে দল বা বন্ধুদের প্রয়োজন। তার সফলতার পেছনে বিশ্বস্ত বন্ধুদের অবদান অনেক।

৫. ক্রমাগত উন্নতি: নিজেকে কখনো সেরা ভাববেন না। প্রতিটা কাজে আগের চেয়ে অন্তত ১% ভালো করার চেষ্টা করুন, সাফল্য আসবেই।

Comments

👇 আরো পোস্ট দেখতে স্ক্রল করুন